সর্বশেষ

রাজপথে সহিংসতা হলে আরও কঠোর হবে আ'লীগ

/ রাজপথে শক্তির মহড়া /

প্রকাশ :


২৪খবরবিডি: 'রাজপথে বিএনপির মিছিল-সমাবেশে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা দলটির ঘরোয়া বিবাদের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তারা বলছে, সহিংসতার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, এবার আর রাজপথ ছাড়বে না দলটি। হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা যতই ঘটুক- মাঠেই মোকাবিলা করা হবে।'
 

বিএনপির মিছিল-সমাবেশে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলো বিএনপিরই 'অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব' ও 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' বলে অভিহিত করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। গত শুক্রবার ও তার আগে একাধিক দিন বিএনপি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ সরকারের পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে কর্মসূচি দিয়ে সভা-মিছিল বের করলেই বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক আক্রমণ হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরেও আক্রমণ হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে সংবাদমাধ্যমে হামলাকারীদের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী-সমর্থক বলে শনাক্ত করা হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতারা ওই কথা বলেন। নেতারা জানান, বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংযত ও সহনশীল থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলন-সংগ্রামের নামে সহিংসতার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশনা রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজপথ দখলে রাখার ব্যাপারেও দলের কর্মীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মিছিল-সমাবেশে হামলা ও ভাঙচুরকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেন। তাঁর ভাষায়, গণভবন ঘেরাও করতে গেলে চা খাওয়ানোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বিএনপি যদি অন্যকিছু করতে চায় তাহলে তো হবে না। তারা তো যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছে। তাদের মিছিলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। দুই-এক জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেটা আমলেও নেওয়া হয়েছে। দলীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সমাধানও হবে। আওয়ামী লীগও সহনশীল থাকবে। তবে জ্বালাও-পোড়াও করলে কি সরকার বসে থাকবে?


-শোকের মাস আগস্টে আওয়ামী লীগের তেমন বড় কোনো কর্মসূচি থাকে না। তবে এবার ব্যতিক্রম হয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারক নেতারা মনে করছেন। আগস্টের শুরু থেকেই বিএনপি আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ফলে কয়েক বছরের চেয়ে এবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় নেতাকর্মীরা সক্রিয় থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। দলের শীর্ষ নেতারাও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

রাজপথে সহিংসতা হলে আরও কঠোর হবে আ'লীগ

এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিনে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটছে।অবশ্য এর পেছনে কারা জড়িত সেটা দলীয়ভাবে খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংযত থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে হামলার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। আওয়ামী লীগ কখনোই এসব চায় না। গণতান্ত্রিক সমাজে প্রতিবাদ হবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
 

তবে অধিকার আদায়ের নামে অহেতুক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, রাস্তাঘাট বন্ধ, অগ্নিসংযোগ এবং সন্ত্রাস করলে তাতে তো মানুষ বাধা দেবেই। সেই ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় দলের নেতাকর্মীদের বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য সব ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে সতর্ক অবস্থানে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সন্ত্রাস ও সহিংসতার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটানোর অপচেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে রাজপথে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলারও দলীয় নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের আরও সহনশীল থাকারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজনীতির মাঠে সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকছেন। এ ক্ষেত্রে অবস্থা বুঝে প্রয়োজনে স্থানীয় ভিত্তিতে দলীয় কর্মসূচিও ঘোষণা করার প্রস্তুতি রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে লাভ নেই। বিএনপি নিজেরাই বিবাদে জড়িয়ে ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা করছে। আবারও দেশজুড়ে নৈরাজ্য এবং আগুন-সন্ত্রাস সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের স্পষ্ট কথা, রাজপথের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংযত রয়েছে। ভবিষ্যতেও সংযত থাকবে। তবে কথিত সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, হামলা, ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলেই সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নেতিবাচক কিছু হলে রাজপথে বিএনপিকে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। নেতাকর্মীদের ভাষায়, রাজপথে শক্ত আন্দোলন করার মতো শক্তি নেই বিএনপির। তারা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য নামেমাত্র কর্মসূচি পালন করে। তবে তারা সুযোগ পেলেই নির্বাচন পর্যন্ত নানা প্রক্রিয়ায় ষড়যন্ত্র করবে, গণ্ডগোল পাকাবে। অবশ্য তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দেওয়া হবে না। আর বাধা দেওয়া হচ্ছে না বলেই বিএনপি নানা কর্মসূচি পালন করতে পারছে। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে আগামীতে সব ঠিক হয়ে যাবে।


অবশ্য গৃহদাহের কারণেও বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটছে বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশ্বাস। 'আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমানের দৃষ্টিতে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে কয়েকটি স্থানে অপ্রিয় ঘটনা ঘটছে। একই কারণে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি নেতাদের বাড়িঘর ঘিরে ঘটছে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো রকম সংশ্নিষ্টতা নেই। তিনি বলেছেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে এটাই তো স্বাভাবিক। এতে আওয়ামী লীগের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কোনো কারণ নেই। বিএনপি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটাক। তা না হলে তারা নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে থাকবে। সেই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কেন এর দায় নেবে?'

Share

আরো খবর


সর্বাধিক পঠিত